Templates by BIGtheme NET
১৩ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩০ রমজান, ১৪৪২ হিজরি

বাংলাদেশের সব ভালোতেই আল জাজিরার আপত্তি !

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ২০, ২০২১, ২:০৯ অপরাহ্ণ

অতি সম্প্রতি ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। বাংলাদেশ নিয়ে ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণার ধারাবাহিকতায় এটি ছিলো মাত্র একটি পর্ব। এর আগের প্রতিবেদন গুলোরও মূল বক্তব্য ছিলো একটাই। তা হচ্ছে, ভাসানচর খুব খারাপ এলাকা, সেখানে গেলে রোহিঙ্গারা পানিতে ভেসে যাবে, অথবা না খেয়ে মারা যাবে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রতি এতোটা সহমর্মী ও মানবিক এই সংবাদমাধ্যমটির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের কোন মানবতাই চোখে পড়ে না। অথচ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশই রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য-সহযোগীতা করেছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে তারা কি ধরনের সুবিধা পাচ্ছে সেটা নিয়ে দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোতে শত শত প্রতিবেদন হয়েছে। অনলাইনেও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সেটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। তবে আল জাজিরা কেন ক্রমাগত ভাসানচর নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করছে সেটাই বরং আলোকপাত করা যাক।

আল জাজিরার বিগত দিনগুলোর প্রতিবেদন দেখলে মনে হয় পৃথিবীতে একটাই মাত্র উদ্বাস্তু শিবির আছে। আর সেটি হচ্ছে বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের যাবতীয় দুঃখ দুর্দশার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশই যেন রোহিঙ্গাদের ডেকে এনে পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। অথচ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার বাহিনীর অত্যাচারের কথা তারা বেমালুম ভুলে গিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে আসছে শুধু বাংলাদেশের দোষত্রুটির কথা। পুরো সমস্যাটা মিয়ানমার সৃষ্টি করলেও এ নিয়ে তাদের কোন উচ্চবাচ্য নেই। মিয়ানমারের দোষত্রুটি এড়িয়ে শুধু বাংলাদেশের দোষত্রুটি তুলে ধরাকে কৌশলী সাংবাদিকতার এক কুৎসিত দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে যা করা উচিৎ, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ তাই করেছে। সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিতে থাকা ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী যখন রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছিলো তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিলো- রোহিঙ্গাদের রক্ষা করবে কে। কাগজ-কলমের নিয়ম অনুযায়ী একমাত্র জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক বাহিনীই এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির কারণে সেটা আজও সম্ভব হয়নি।

কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান করেছিলো বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে গণহত্যা থেকে রক্ষা করেছিলো ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে। অথচ বাংলাদেশের সেই মহৎকাজটির কথা আল জাজিরা কখনো তুলে ধরেনি বরং রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে জীবনের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে বাংলাদেশকেই দোষারোপ করছে তারা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জীবণ বাঁচানো ও আশ্রয় দেয়াটাই ছিলো রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কারণ মানুষের কাছে জীবনের মূল্যই সবচেয়ে বেশি। যা আর কোনও দেশ দিতে রাজি হয়নি।

এছাড়া চিকিৎসা, খাদ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের চাহিদাই পূরণ করছে বাংলাদেশ। অথচ আল জাজিরা এগুলোকে উপেক্ষা করে ‘হাসিনা বেগম’ অথবা ‘হাসান’ নামের গুটিকয় রোহিঙ্গা ভাসানচরে কেন যেতে চাচ্ছে না, সেটাকেই বড় করে তুলে ধরছে।

প্রশ্ন হচ্ছে আল জাজিরা কেন এমনটা করছে। কি তাদের স্বার্থ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক কালের উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আর বিশ্বের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলোকে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হয়। রোহিঙ্গা সমস্যাটি ছিলো বাংলাদেশের দিকে ছুঁড়ে দেয়া একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ যেটি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে বলেই ধারণা করা হয়েছিলো। কিন্তু বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে সমস্যাটি কোয়ারেন্টাইন করে নিয়েছে।

কোয়ারেন্টাইন অর্থ হচ্ছে সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা। যেটি বাংলাদেশ খুব ভালোভাবেই করেছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার উদ্যোগ নেয়ায় কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল আন্তর্জাতিক রাজনীতির মাঠে পরিনত হতে পারেনি। এতে অনেকের পরিকল্পনাই ভেস্তে গেছে। আর সেই ক্ষোভ মেটাতেই ভাসানচরকে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।

সাংবাদিকরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাজ হচ্ছে বিশ্বের যেখানেই যা ঘটুক, সেটা গুরুত্ব অনুযায়ী তুলে ধরা। কোন নির্দিষ্ট দেশের ক্ষতি, অথবা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়। কিন্তু আল জাজিরা যেভাবে ভাসানচর নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে মনে হচ্ছে ভাসানচর নিয়ে তাদের বাড়তি কোন ক্ষোভ আছে।

শুধু ভাসানচর নয়, উদীয়মান বাংলাদেশের সবকিছুই তারা নেতিবাচকভাবে প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া তাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ দেশের যে কোন সফলতাকে ছোট করে দেখাতে এবং যে কোন সমস্যাকেই বড় করে দেখানোই যেন তাদের মূল উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × three =