Templates by BIGtheme NET
১৯ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

সজীব ওয়াজেদ জয়: তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে বাংলাদেশের অনবদ্য নায়ক

প্রকাশের সময়: আগস্ট ১, ২০২১, ৫:০৩ অপরাহ্ণ

ফনিন্দ্র সরকার

ইতিহাসের মহানায়ক বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে আত্মমর্যাদার জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে সীমাহীন ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তার কন্যা শেখ হাসিনা সেবা ও ত্যাগকে জাতীয় আদর্শে রূপান্তর করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষিপ্রগতিতে। উন্নয়নের রোল মডেলের অনন্য উদাহরণ হিসেবে আজ বংলাদেশকেই বেছে নেয় বিশ্ব। এ এক বিস্ময়কর অনুভূতি।

মহাভাবনার আলোকে মন ছুঁয়ে যায় অনাবিল-আনন্দে। রিকশাওয়ালা, কুলি-মজুর, দোকানদার, গ্রামের কৃষক শ্রমিকের হাতে টাচ মোবাইল দেখে আনন্দে মনটা ভরে যায়। শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে আজ কম্পিউটার, ল্যাপটপ। জীবনের প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গেই আধুনিক প্রযুক্তির এসব যন্ত্র জড়িয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্যতম প্রধান দফা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে গোটা বাংলাদেশকে ডিজিটালে রূপান্তর করা হবে।

সনাতনী এনালগ সিস্টেম থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হয়। সেই স্বপ্নের স্বপ্নচারী বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়। এতেই বাজিমাত হয়ে যায় নির্বাচনে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল জয় নিয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে ক্ষমতায় আসীন হয় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসেন শেখ হাসিনা। মাত্র ৩৭ বছরের যুবক ‘জয়, এক নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় একজন সফটওয়ার বিজ্ঞানী। অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও দেশপ্রেমিক ‘জয়, উত্তরাধিকার সূত্রেই প্রাপ্ত জনতার ভালোবাসার গৌরবদীপ্ত মন। বিদেশে পড়াশোনা করলেও স্বদেশের প্রতি মহতি টান কমেনি এতটুকু।

বাংলায় পড়তে পড়তে তার ভালোবাসার রং ছড়িয়ে যাচ্ছে। গত ২৭ জুলাই জয়ের ৫১তম জন্মদিন ছিল। বাংলার তারুণ্যদীপ্ত কোটি প্রাণের আবেগ মিশ্রিত বর্ণাঢ্য আবেদন সৃষ্টি হয়েছিল বাংলার পবিত্র লীলাভূমিতে। ৫০ বছর আগে একটি দেশের স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের একদিন পরই ‘জয়, নামক নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল। রাজনৈতিক বৈরি পরিবেশ সত্ত্বেও নবতর উচ্ছ্বাসে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা উপভোগের অঙ্গীকারে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল শত্রুমুক্ত বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে। রক্তক্ষয়ী বর্ণাঢ্য ইতিহাসের পথ বেয়ে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশমান সভ্যতাকে সমৃদ্ধির পথে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করানোর মহান কারিগর সজীব ওয়াজেদ জয়। এ যেন আরেকটি জয়।

৫০ বছর আগের জয় বর্তমান জয়ের সন্ধিক্ষণে গর্বিত বাঙালি বীরের ঐতিহ্যকে মহত্তম স্থানে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে সজীব ওয়াজেদ জয় নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে বাংলাদেশকে এ প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। তখন বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয় সব ভয় ও সংশয় অতিক্রম করে আধুনিক ধারণার জয় উপহার দিয়েছেন বাঙালি জাতিকে।

‘জয়, এ নামটি বঙ্গবন্ধুরই দেওয়া। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই নামটি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এর পর কত ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী করাচির কারাগারে আটক রাখে। যুদ্ধ এক ভয়ংকর পরিবেশের মধ্যে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। প্রিয়জনবিহীন শেখ হাসিনা নবতর প্রসূতি মর্যাদা লাভে হাসপাতালে শুধুই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন সন্তানের সুস্থতা একই সঙ্গে বাংলার মানুষের সাফল্য। জয়ের জন্মদিনে তিনি যে স্মৃতিচারণ করেছেন, তা শৃঙ্খলিত মর্মবেদনার মানবিক অনুষজ্ঞ হয়ে থাকবে যুগ যুগান্তর।

জয়ের জন্মদিনে ‘সজীব ওয়াজেদ : তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। দ্বিভাষিক এ গ্রন্থটিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের শিক্ষা ও কর্মবহুল বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর বেশ কিছু নিবন্ধ, সংবাদচিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গিত গ্রন্থটি বিজ্ঞান মনষ্ক সৃষ্টিশীল তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত করবে আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। গ্রন্থটি প্রচ্ছদ এঁকেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ। এর ইংরেজি সংস্করণের নাম ÔSajeeb Wazed

Joy : A Spirited Graceful Journey ১৬০ পৃষ্ঠার বইটির উপদেষ্টা যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এটি সম্পাদনা করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফত। জয়ীতা প্রকাশনী থেকে গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন ইয়াসীন কবির জয়। ই-বুক আকারেও বইটি পাওয়া যাবে ওয়েব সাইটে(https://gorbitopothchola.net)।

অসাধারণ মেধাবী বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিনা ভাতা ও বিনা বেতনে সেবা ও ত্যাগের ব্রত নিয়ে জয় দেশকে স্বপ্ন জয়ের দুয়ারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। স্কুল জীবন থেকেই জয়ের ঝোঁক ছিল কম্পিউটারের প্রতি। ভারতে বেঙ্গালুর ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স এরপর হার্ভার্ড থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি, তিনি পাবলিক সার্ভিসের ওপরও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

আধুনিক সভ্যতার যুগে বিজ্ঞানের উন্নয়ন ছাড়া সমৃদ্ধশালী দেশ গড়া সম্ভব নয়। জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাবে সম্পদ তত বেড়ে যাবে। জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ বোধ থেকেই জয় কম্পিউটার শিক্ষাকে প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জয়ের এ মেধা শক্তির আরও একটি কারণ তার পিতা ড. ওয়াজেদও একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। আর মাতা শেখ হাসিনা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেতা।

দুটি গুণের সংমিশ্রণে জয় এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি কম্পিউটারের সহজলভ্যতা এবং আমদানিকৃত প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির ওপর ট্যাক্স মওকুফ করার পরামর্শ দেন। যাতে এ দেশের গরিব শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও কম্পিউটার ব্যবহারে সক্ষমতা লাভ করতে পারে। আজ প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি এমনকি বড় বড় গ্রোসারি শপেও কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে। নতুন নতুন অ্যাপস বেড় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ যদি ডিজিটাল না হতো তবে এই কোভিডকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ত। অফিসের কাজ বাসায় বসেই সম্পন্ন করা যাচ্ছে। এ এক অভূতপূর্ব সাফল্য। মানব জীবনে, মানবের পারস্পরিক সম্পর্কে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে আধুনিক এ প্রযুক্তি। ভৌত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যখন একটি ক্ষুদ্র জীবন্ত কোষ পর্যবক্ষেণ করছে সেটি বিজ্ঞানীর কাছে এক বিস্ময়কর বস্তু।

জীবকোষ গঠনে বিস্ময়, তারমধ্যে জৈবিক ক্রিয়া কলাপে বিস্ময় সৃষ্টি করছে। এতে আকারের পরিবর্তন ঘটছে, সংখ্যা বৃদ্ধি করছে সবই আশ্চর্য ব্যাপার। পদার্থ বিজ্ঞানেও ক্ষুদ্র জড় কণার মধ্যে বিশাল শক্তি অবস্থান লক্ষ্য করে বিস্ময়ে অভিভূত হতে হয়। এটা হচ্ছে পরমাণু বিজ্ঞান। এ বিষয়টাকেও মানুষ আশ্চর্য বলে থাকে। সেক্সপিয়রের এক সুবিদিত রচনায় উল্লেখ আছে, ‘মানুষ কী এক আশ্চর্য সৃষ্টি’। এই মানব জগতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মানুষ।

জগৎ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। আধুনিক বিজ্ঞানের মনস্তত্ব ও স্নায়ুতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা যখন মানবের গভীরে থেকে গভীরতর প্রদেশে প্রবেশ করবে, তখন এই বিস্ময় আরও বেশি বেশি উদ্ঘাটিত হবে। মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা এক বিরাট আশ্চর্য ব্যাপার। মস্তিষ্কে কীভাবে কাজ করে, কী রূপে বিভিন্ন কোষের সমবেত প্রচেষ্টার ফলে সুসম্বন্ধ জীবন ও জাগতিক প্রতিক্রিয়া উদ্ভুত হয়, এসবই আশ্চর্যের বিষয়।

কিন্তু সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কম্পিউটার। বর্তমান চিন্তাধারণার মধ্যে বড় রকমের আহ্বান কম্পিউটার। ‘জয়ের, আধুনিক এ চিন্তাধারা সাফল্যজনকভাবেই সমৃদ্ধির পথকে প্রশস্ত করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই স্যাটেলাইট ব্যবহারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেটের সার্বজনীন ব্যবহারের গতিশীল জীবন অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দিতে জয় যে সাধনায় মত্ত হয়েছেন, তাতে তিনি সফলকাম হবেনই এতে কোনো সন্দেহ নেই। তার অনবদ্য প্রচেষ্টা একদিন মহাযাজ্ঞিক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যম-িত হবে। তিনি যুব সমাজের মনে জ্ঞানাগ্নি জাগিয়ে তুলতে একটির পর একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড হয়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষা অধিকতর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আজকের তরুণ সমাজ প্রযুক্তির ব্যবহারে এতটাই মনোযোগী যে, চোখে তাদের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এদিকে শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ানও তারুণ্যের অহংকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারা নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়ে যাত্রার নিশানা চিহ্নিত করছেন। ধীরস্থির এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই বাংলাদেশ সাফল্যে পৌঁছেছে। উন্নত বিশ্বের তালিকায় বাংলাদেশের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে।

 

কলাম লেখক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
[email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 1 =