Templates by BIGtheme NET
১৯ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন যাত্রায় সরকারের ভূমিকা

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২, ২০২১, ৫:১২ অপরাহ্ণ

চলতি বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দেশে-বিদেশে প্রচুর আলোচনা ও লেখালেখি হচ্ছে।

বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি, তৈরি পোশাক খাতের সাফল্য, অভিবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স প্রেরণ, ক্ষুদ্রঋণের বিস্তার এবং এনজিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা ওঠে এসেছে।

অতীতের দুর্ভিক্ষ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে এগিয়ে চলছে। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অভাবনীয় রূপান্তরের পেছনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম সরকার অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর সরকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্বাসন ও নানা ধরনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ব্যতিব্যস্ত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের একটি রূপরেখাও তৈরি করেছিল। যার প্রতিফলন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

ষাটের দশকের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি থেকে এ অঞ্চলের প্রধান শস্য ধান উৎপাদনের পরিমাণ টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে চলেছে।

এ সময়ে প্রবর্তিত উচ্চফলনশীল জাতের ধান উৎপাদন প্রসারিত হয়। এছাড়া সেচ সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুম অর্থাৎ শীতকালেও ধান চাষের উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটে।

সেচ ব্যবস্থা ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষাবাদের ফলে ১৯৮০-এর দশকে সরকার কৃষির বাজারকে উদারীকরণ করা শুরু করে। এর আওতায় সেচের জন্য ব্যবহৃত পাম্প ও ডিজেলচালিত ইঞ্জিন আমদানির বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা অপসারণসহ সার বিতরণ ও আমদানিও ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেয় সরকার।

এ নীতিগত পদক্ষেপগুলো উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। ফলে নব্বইয়ের দশকের শেষ ও দুই হাজার দশকের শুরুতে শস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

আশির দশকে বড় শহরগুলোর সঙ্গে মফস্বলের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়, এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্যতম বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ভালো যোগাযোগ গড়ে ওঠে।

ফিডার রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন ঘটে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে ফিডার রাস্তা ছিল তিন হাজার কিলোমিটার। ১৯৯৭ সাল নাগাদ যা বেড়ে হয় ১৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এ ধরনের সড়ক বাংলাদেশের গ্রামগুলোকে গোটা দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে।

আশির দশকে পোশাক শিল্পে ব্যাক টু ব্যাক এলসি ও ডিউটি ড্র ব্যাক সুবিধা দেশের উদীয়মান পোশাক শিল্পের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের পথ মসৃণ করে।

তৈরি পোশাক রফতানি বৃদ্ধি দেশকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও সরকারি বিনিয়োগ কার্যক্রম দেশের উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র কৃষক, তৈরি পোশাকের রফতানিকারকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

তাছাড়া পোশাক শিল্পে কর্মরতদের বেশির ভাগই গ্রামীণ নারী হওয়ায় এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এক ধরনের আর্থিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এরপর এটি অভিবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের রেমিট্যান্সপ্রবাহ দিয়ে পূর্ণতা লাভ করে।

১৯৯৭ সালে রেমিট্যান্সপ্রবাহ ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থাকলেও ২০২০ সাল নাগাদ এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলগুলোয় আয় বৃদ্ধি পায়, যা গ্রামে অকৃষি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে। ফলে কৃষির পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমের প্রসার ঘটে।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা উদারীকরণ ও একই দশকের দ্বিতীয়ার্ধে এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ফলে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় সব নাগরিকের কাছে সেলফোন পৌঁছে যায়।

২০১০ সালের দিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১৯ সাল নাগাদ ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়, যেখানে ২০০৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।

এদিকে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল আর্থিক পরিষেবা নীতি সংস্কার করলে ২০১৩ সালের শুরু থেকে ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত মোবাইল আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ১৫ গুণ বৃদ্ধি পায়।

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে যে কাজ শুরু হয়, গত এক দশকে সেই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা কর্মসূচির প্রশংসনীয় বাস্তবায়ন বাংলাদেশে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে বিভিন্ন সরকার উন্নয়নের তাগিদে নীতি প্রণয়ন ও বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের একটি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যার মর্ম সবাই উপলব্ধি করতে না পারলেও এর ফলাফল আজ সারা বিশ্বে স্বীকৃত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two + 10 =