Templates by BIGtheme NET
১৯ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

শোকের সাগর থেকে শক্তির আগুন

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২, ২০২১, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্ধকারতম শোকাবহ দিন ১৫ আগস্ট। এদিন বাঙালি জাতির মন থেকে শেখ মুজিব নামক সূর্যকে মুছে ফেলতে নৃশংস হত্যাকান্ড চালায় ঘাতকরা। কিন্তু ঘৃণ্য ঘাতকদের নৃশংস হত্যাকান্ড বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্বকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডে একটি মুজিবকে হারালেও লাখ কোটি হয়ে মুজিব সারা পৃথিবীর মানুষের মনে চিরস্থায়ী ঠাঁই করে নিয়েছেন। তার মৃতু্য হয়নি, তিনি হয়েছেন অমর ও চিরঞ্জীব।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী উচ্চাভিলাষী কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে হত্যা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবারকে। শুধু বঙ্গবন্ধু নয়- তারা মুছে ফেলতে চেয়েছিল বাঙালির হাজার বছরের অর্জন, স্বাধীনতার আদর্শ এবং বাঙালির বীরত্বগাথার ইতিহাসও। কিন্তু শোকের সাগরে নিমজ্জিত বাঙালি জাতিকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হতে একচুলও সরাতে পারেনি কেউ-ই।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শনে দেশের সংবিধানও প্রণয়ন করেছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। শোষক আর শোষিত বিভক্ত সেদিনের বিশ্ববাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে। পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-দমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার ডাকে সাড়া দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছিলো বাঙালি জাতি। অথচ স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তার আলোকে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিলো ঘাতকরা।

ঘৃণ্য ঘাতকরা চেয়েছিল ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে ফেলতে। কিন্তু প্রকৃতির প্রতিশোধ- নিজেদের ব্যর্থতার ছাইয়ে নিজেরাই চাপা পড়ে গেছে তারা। বঙ্গবন্ধু আজ বিশ্ববন্ধু, বিশ্বনেতার আসনে ঠাঁই পেয়েছেন ইতিহাসের অমর পাতায়। স্বীয় নাক্ষত্রিক আলোকশিখায় উদ্ভাসিত করেছেন চারদিক। শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়ে অমর হয়েছেন মহাকালের কালজয়ী বহতায়। ঘাতকদের কোনো ইচ্ছারই স্থায়ী বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি। তাদের নামও লিখা হয়েছে চিরস্থায়ী ঘৃণার আসনে। প্রকৃতি নিজ হাতে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েছে। আর বঙ্গবন্ধু মরেননি, কোথাও হারিয়ে যাননি তিনি। লাখ কোটি সূর্যের প্রজ্ঞাময় অঙ্গীকারে তিনি বেঁচে আছেন- চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্রফেসর ডা. নাজমা বেগম নাজু : কবি, কথাসাহিত্যিক, চিকিৎসক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × 3 =