Templates by BIGtheme NET
১৮ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

আফগান সেনাবাহিনীর ওপর ভরসা করা ভুল ছিলো!

প্রকাশের সময়: আগস্ট ১৬, ২০২১, ৯:২৫ অপরাহ্ণ

আফগানিস্তান পুরোপুরি তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর সমালোচনায় পড়েছে বাইডেন প্রশাসন। বিশেষ করে তালেবান নিয়ন্ত্রণের পর বহু আফগান নাগরিক দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টার পর সমালোচনা আরো তীব্র হয়েছে।

ন্যাটো বাহিনীর সাবেক কমান্ডার রামস বলেছেন, “মার্কিন বাহিনী যদি ফিরেই যাবে তাহলে ১০ বছর আগেই ফেরা ভালো ছিলো। মূলত ২০১০ সালে সেখানে সৈন্য কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো তারই খেসারত দিতে হচ্ছে আজকে।”

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেছেন, “যে কারণে আমেরিকা আফগানিস্তানে গিয়েছিল, তা পূর্ণ হয়েছে।” তবে এই কথায় মন গলেনি বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, মার্কিন পর্যবেক্ষণে ভুল ছিল।

মার্কিন বাহিনী চলে আসার পর সেখানকার দায়িত্ব নেবে আফগান সেনাবাহিনী এবং তালেবানদের তারা প্রতিহত করতে পারবে এমন ধারণাই ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের। এতে কূটনৈতিক কার্য়ক্রম চালানো এবং বিদেশি নাগরিকদেরও সরিয়ে নেয়ার সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই দেশটির দখল নিয়েছে তালেবান বাহিনী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালেবানরা যতোটা না দ্রুত দখল নিয়েছে তার চেয়ে দ্রুত চম্পট দিয়েছে আফগান সেনাবাহিনী। আর এতেই সমালোচনা তীব্র হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো, বলছে আফগান বাহিনীর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সেটি আক্ষরিক অর্থে তাদের খুব একটা কাজে আসেনি। বিগত ১০ বছর যাবত আফগানবাহিনী মূলত মার্কিন বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলো। মার্কিন প্রযুক্তি ছাড়া তাদের বেশিরভাগ অপারেশনই ফেইলিওর হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকান বাহিনীর অতি আশাবাদী মূল্যায়নের কারণে আফগান বাহিনীর দুর্নীতি ও দুর্বলতাগুলো চোখে পড়েনি। এছাড়া বাহিনীটিতে এমন অনেক নামস্বর্বস্ব ‘গেস্ট সোলজার ও পুলিশ’ ছিল যারা আসলে মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুধু বেতন নিতেন।

উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে, ২০০৩ সালে আফগানিস্তানের ৬ হাজার নিরাপত্তা রক্ষী ছিল। ছিল না কোনো পুলিশ। তবে মার্কিন সহযোগীতায় ২০২১ সালের এপ্রিলে পুলিশের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জনে। আর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১ জন।

বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এমন দাবীও করেছিলেন মার্কি কমান্ডাররা। কিন্তু বাস্তবিকভাবে দেখা গেল আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী আসলে কোনো সংঘর্ষ বা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতই ছিল না।অপরদিকে তালেবান যোদ্ধাদের সংখ্যা আনুমানিক ষাট হাজার বলে ধারণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × 3 =