Templates by BIGtheme NET
১৮ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

বঙ্গবন্ধু হত্যায় চিহ্নিত ও অচিহ্নিত চক্র

প্রকাশের সময়: আগস্ট ১৭, ২০২১, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় যারা প্রত্যক্ষ অংশ নিয়েছিলো, সেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই শাস্তি হয়েছে অনেকেই পলাতক আছে। কিন্তু এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা যারা করেছিলো তাদের অপরাধ লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে এরকম আড়ালে থাকা অন্তত ৭ টি চক্রের সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার ১৬ আগষ্ট লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তবে প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড অনুসন্ধান করলে প্রকাশ্য অন্তত চারটি চক্রের সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে বাকি চক্রগুলোর তথ্যও সময়মতো উন্মোচন করা হবে বলে জানান তিনি।

ফারুক-রশিদ চক্র :

বঙ্গবন্ধুর হত্যার মূল পরিকল্পনাটি করেছিলো ফারুক-রশিদ চক্র। পুরো পরিকল্পনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কারা অংশগ্রহণ করবে, কে কোন দ্বায়িত্ব পালন করবে, এসবই ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেছিলো তারা। এমনকী বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নতুন সরকার গঠন, হত্যাকারীদের নিরাপদে বিদেশ পাঠানোর মতো বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া সম্ভব ছিলো না। তাই সেসব দেশের এজেন্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করতো তারা।

সিআইএ :

১৯৭১ সালে রাশিয়া-আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধুকে মার্কিন বিরোধী অবস্থানে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আমেরিকার সবচেয়ে বড় শুত্রু। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধুকে প্রকাশ্যই শত্রু বলে উল্লেখ করেন।

এসময় বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে মার্কিন গোযেন্দা সংস্থা সিআইএ। বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করতে তারা খুঁজে বের করে সেনাবহিনীর অসন্তুষ্ট কর্মকর্তা ও স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথা অুনযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্বব্যপী সিআইএর বিভিন্ন কর্মকান্ডের গোপন তথ্য অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্ত হওয়া সেসব নথিতে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে সিআইএর গোপন তৎপরতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় । এসব নথি একত্র করে বাংলাদেশের প্রথমা প্রকাশনী একটি বইও প্রকাশ করেছে।

আইএসআই :
স্বাধীনতার পরও রিকনফেডারেশনের আওতায় দুই পাকিস্তানকে পুনরায় একত্র করতে নানান তৎপরতা চালিয়েছে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সংগে বিভিন্ন ব্যক্তির যোগাযোগ করিয়ে দেয়া এবং খন্দকার মোশতাকের সরকারের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করতো আইএসআই।

জাসদ :

জাসদ সাধারনত মার্কিন সম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান নিলেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জাসদের কর্মকাণ্ড দেশকে যথেষ্ট অস্থিতিশীল করে তোলে, যা পক্ষান্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পরিকল্পনা সফল করতেই বেশি সাহায্য করেছিলো। আওয়ামী লীগের বহু নেতা এমনকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাসদের বিষয়ে এমন অভিযোগ করেছেন। এটিও হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার অংশ ছিলো কিনা সেটিও তদন্তের প্রযোজন বলে মনে করেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

18 − eleven =