Templates by BIGtheme NET
১৮ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রীয় যেসব পরিবর্তন আনেন খন্দকার মোশতাক

প্রকাশের সময়: আগস্ট ১৭, ২০২১, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের তিনি ‘জাতির সূর্য সন্তান’ বলে আখ্যা দেন। এরপর শাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনেন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার এই বাণিজ্যমন্ত্রী।

মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরী তার ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতা প্রথম দশক’ বইতে লিখেছেন, ” খন্দকার মোশতাক সরকার গঠন করে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনির স্থলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ধ্বনি প্রচলন করেন। বাংলাদেশ বিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে বহাল করেন। এ সময় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ তৎপর হয়ে উঠে।” নতুন সরকারকে সবার আগে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান।

১৯৭৫ সালের ২০শে আগস্ট খন্দকার মোশতাক সামরিক আইন জারি করে নিজেই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন। ক্ষমতা গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করেন। ফলে তার সরকারে ১২ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর পদ ছিল না।

মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরী আরও লিখেছেন, ”ক্ষমতায় এসেই এই মোশতাক তাড়াহুড়ো করে সামরিক বাহিনীতে পরিবর্তন আনেন। জেনারেল ওসমানীকে (এমএজি ওসমানী) একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টা করা হয়। উপ-সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করা হয়। আর পূর্বতন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহকে অব্যাহতি দিয়ে তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের জন্য।”

এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা বিচার যাতে না করা যায়, সেই দায়মুক্তি দিয়ে ২৬শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

আনোয়ার উল আলম তার ‘রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা’ বইয়ে লিখেছেন, ”খন্দকার মোশতাক মন্ত্রিসভা গঠন করেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করতে থাকেন। ২৩শে আগষ্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, এম মনসুর আলী, আবদুস সামাদ আজাদসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে যারা তাকে সমর্থন করতেন এবং তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে অস্বীকার করেন, তাদের বন্দী করেন।”

এরপর ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। সেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের নির্দেশে।

ক্ষমতা দখলের পর হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তা এবং নতুন সরকারের সদস্যদের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ ছিল রক্ষীবাহিনী। তাই আগষ্টেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত করে সামরিক বাহিনীর সাথে একীভূত করে ফেলা হবে।

সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এম এ জি ওসমানী রক্ষীবাহিনীর কর্মকর্তাদের ডেকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে রেডিও পাকিস্তানের অনুকরণে ‘রেডিও বাংলাদেশ’ নাম নির্ধারণ করেন।

অন্যদিকে, খন্দকার মোশতাক আহমেদ সবসময়ে যা পরে থাকতেন, সেই আচকান ও শেরওয়ানিকে জাতীয় পোশাক হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। মোশতাক যে টুপিটি মাথায় পরতেন, সেই টুপিকে জাতীয় টুপি ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে এই টুপি ও পোশাক পরে যোগদান করতে হবে।

৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে খন্দকার মোশতাককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ছয়ই নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেয়ার পর পরের বছর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nine + 8 =