Templates by BIGtheme NET
১৮ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ মহর্‌রম, ১৪৪৩ হিজরি

বিএনপি ও আওয়ামী শাসনামলের অর্থনৈতিক চিত্র

প্রকাশের সময়: আগস্ট ১৮, ২০২১, ২:০৪ অপরাহ্ণ

বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের সর্বশেষ বাজেট হয় ২০০৬ সালে। তৎকালীন জাতীয় বাজেটের আকার ছিলো ৬১ হাজার কোটি টাকা মাত্র।

বিএনপির শেষ বাজেটের পর দুই বছর ক্ষমতায় ছিলো সেনাশাসিত সরকার। এরপর ক্রমাগত বাড়তে থাকে জাতীয় আয় ও বাজেটের আকার।

বর্তমান আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ (২০২১-২২) অর্থবছরের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

২০০৬ সালের তুলনায় এই বাজেট ৭৬৮ গুণ বেশি। অর্থাৎ মাত্র ১২ বছরেই ৭৬৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে জাতীয় আয়।

এছাড়া ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের দেয়া বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেট ৭.৬১ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ ১২ বছরে জাতীয় বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৬১ গুণের বেশি।

বার্ষিক উন্নয়নের জন্য এ বছর বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। বিএনপির সর্বশেষ বাজেটে এই বরাদ্দ ছিলো মাত্র ২৪ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ। বিএনপির আমলে কোন মহামারি বা বৈশ্বিক মন্দা না থাকলেও প্রবৃদ্ধি ছিলো ৫.০৪ এর কম।

বর্তমানে একজন রিকশাচালকের দৈনিক গড় আয় ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা যা বিএনপি আমলে ছিলো ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। – একজন দিনমজুরের আয় ছিলো দৈনিক ২০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে একজন দিনমজুরের আয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

২০০৬ সালে একজন পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ছিলো মাত্র দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা।

প্রশ্ন উঠতে পারে, শ্রমিক-মজুরের আয় বাড়লে কি হবে? নিত্যপণ্যের দাম তো বেড়েছে।
কিন্তু এর উত্তরটি রয়েছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতায়।

বিএনপি শাসনামলের শেষদিকে একজন দিনমজুর তার উপর্জেন দিয়ে ৭ থেকে ৮ কেজি চাল কিনতে পারতেন। বর্তমানে একজন দিনমজুর তার উপার্জন দিয়ে ১৫ থেকে ১৮ কেজি চাল কিনতে পারেন।

এছাড়া বিএনপির আমলে সামরিক-বেসামরিক ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যা বেতন পেতেন বর্তমানে তার চেয়ে ১২৩ শতাংশ বেশি বেতন পাচ্ছেন।

বিএনপি আমলে মানুষের বাৎসরিক মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৪৩ ডলার। বর্তমানে সেটি ২২২৭ ডলার।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় শতভাগ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। অথচ একটা সময় ছিলো, যখন খোদ রাজধানীতেই দৈনিক ৭-৮ ঘন্টা লোডশেডিং হতো।

বর্তমান সরকারের নানামুখি পদক্ষেপের কারণে বিদেশে শ্রমিক রপ্তানী বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক কূটনীতি, সরকারী পর্যায়ে শ্রমিক রপ্তানী সহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে রেমিটেন্স আসছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। যা বিএনপি আমলে ছিলো মাত্র ৪.৮ বিলিয়ন ডলার।

একটি সরকারের দক্ষতা, দুরদর্শীতা ও পরিকল্পনার প্রতিফলন হচ্ছে দেশটির রপ্তানী আয়,যেটি বিএনপি আমলে ছিলো মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন ডলার। আর বর্তমানে রপ্তানী আয় ৪৫.৫০ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিলো ০.৪৬ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রিার রিজার্ভ এখন ৪৫ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

দেশে প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৪০ জন ছিলো দরিদ্র এবং ২০ জন ছিলো অতি দরিদ্র। বর্তমান সরকার দারিদ্রের হার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে এনেছে।

বর্তমানে দারিদ্রের ২০ শতাংশ এবং অতি দারিদ্রের হার ১০.৪ শতাংশ। কর্মসংস্থান হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ লোকের। প্রায় ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেনীতে উঠে এসেছে। যেটি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তর হতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমারের কাছ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলামিটার সমুদ্র এলাকা এবং ভারতের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৪৭৬ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকার ওপর অধিকার অর্জিত হয়েছে, যা এই সরকারের একটি বড় অর্জন।

উল্লেখিত এই পরিসংখ্যানগুলোতেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পার্থক্য দেখা যায় দুই নেত্রীর শিক্ষা, দূরদর্শিতা ও দেশের প্রতি আন্তরিকতায়। তাইতো এক নেত্রী দেশকে রুপান্তর করেছিলেন বোমা হামলা আর জঙ্গিবাদের জনপদে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দেশকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নত দেশের কাতারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

sixteen − seven =