Templates by BIGtheme NET
১০ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৫ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

যুদ্ধাপরাধের বিচারে শেখ হাসিনা : ইতিহাসে অক্ষয় যে নাম!

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১০, ২০২১, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় তার শিশু সন্তান রাসেলকেও রেহাই দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা যদি দেশে থাকতেন তারাও সেই রাতে নিহত হতেন।

পচাত্তরের পর দীর্ঘকাল তাদের দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি ছিলো না। প্রবাসে থাকতেন পরিচয় গোপন করে। দেশের অভ্যন্তরেও একের পর এক আঘাত আসছিলো আওয়ামী লীগের ওপরে।

এরকম বিপর্যস্ত অবস্থায় শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেছিলেন এবং সেই সময় থেকে প্রায় ৪০ বছর যাবত তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হত্যা চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং যতোক্ষণ বেঁচে থাকবেন ততোক্ষন পর্যন্ত হত্যার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, এটি নিশ্চিত। তারপরও শেখ হাসিনার তার লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নজিরবিহীন হামলা হয়েছে সারাদেশে। তখনও শেখ হাসিনা অবিচল ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু করেছিলেন তখন পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ জানতো এতো বড় একটা গণহত্যার বিচার হবে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে কোনো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। কিন্তু তারপরও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়।

এরপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এই বিচার শুধু বন্ধই করেননি, বিচারে যাদের শাস্তি হয়েছিলো তাদের সবাইকে তিনি জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীরা রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ছিলো, সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন।

জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। এই অধ্যাদেশে স্পষ্ট উল্লেখ ছিলো পচাত্তরের সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে সেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যা বিচার শুরু করেন। সেই সময়টাতেও বিভিন্নভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো।

২০০১ সালে মহাবিপর্যয় আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার নকশা করা হয়েছিলো। সেখান থেকেও তিনি দলকে বের করে এনেছেন ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এরপর শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেন।

সে বিচারের বিরুদ্ধে তখন জাতিসংঘ ছাড়াও পাকিস্তান, তুরস্কসহ বহু দেশ থেকে বাধা এসেছে। শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে বলা হয়েছে বিচার বন্ধ করতে। কিন্তু তিনি কোনকিছুরই পরোয়া করেননি।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। চল্লিশ বছর পর এই বিচার শুরু করাটা ছিলো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ । কারণ ৪০ বছরে বেশিরভাগ সময় এই যুদ্ধাপরাধীরাই নানাভাবে ক্ষমতায় ছিলো এবং তারা যাবতীয় তথ্য-প্রমাণগুলো নষ্ট করে ফেলেছিলো।

তবুও শেখ হাসিনা ছিলেন অবিচল। আন্তর্জাতিক হুমকি, বারবার হত্যার চেষ্টা উপেক্ষা করে তিনি যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছেন। আর এই বিচার পৃথিবীর ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − 3 =