Templates by BIGtheme NET
১০ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৫ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

দক্ষিণ ঢাকায় দিনে ১৯ বিবাহবিচ্ছেদ, এগিয়ে নারীরা

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১০, ২০২১, ৮:০৭ অপরাহ্ণ

ঢাকা দক্ষিণে ২০২১ সালের প্রথম আট মাসে বিবাহবিচ্ছেদ হয় ৪ হাজার ৫৩৬টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৮২টি আবেদন করেছেন নারীরা। অন্যদিকে পুরুষদের আবেদনের সংখ্যা ১ হাজার ২৫৪টি।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দিনে গড়ে প্রায় ১৯টি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।

ঢাকা ‍উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দৈনিক এ সংখ্যা কত, সেটি জানা যাবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে।

দুই সিটি করপোরেশনের নথি ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির নথি বলছে, স্ত্রী ও পুরুষের সন্দেহবাতিক মনোভাব, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বিচ্ছেদের বড় দুটি কারণ। এর বাইরে রয়েছে যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মাদকাসক্তি, যৌন অক্ষমতা, স্বামীর অবাধ্য হওয়া, ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী না চলা, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি উদাসীনতা, সন্তান না হওয়ার মতো বিষয়গুলো।

বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, তালাকের নোটিশ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রথমে মেয়রের কার্যালয়ে তালাকের আবেদন নথিভুক্ত হয়। তারপর সেখান থেকে তালাকের আবেদন মূলত স্ত্রী কোন অঞ্চলে বসবাস করছেন, সেই অনুযায়ী ওই অঞ্চলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

কোন সিটিতে কত বিচ্ছেদ

ডিএসসিসি: ২০২০ সালে ডিএসসিসিতে ৬ হাজার ৩৪৫টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। দিনে ১৭টি বিবাহবিচ্ছেদ হয় ঢাকার এই অংশে।

ডিএসসিসিতে বিচ্ছেদের আবেদন বেশি করেছেন নারীরা। তাদের আবেদনের সংখ্যা ৪ হাজার ৪২৮টি। অন্যদিকে বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন ১ হাজার ৯১৭ জন পুরুষ।

ডিএসসিসিতে ২০১৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদের ৬ হাজার ৩৬০টি আবেদন পড়ে।

ঢাকা দক্ষিণে ২০২১ সালের প্রথম আট মাসে বিবাহবিচ্ছেদ হয় ৪ হাজার ৫৩৬টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৮২টি আবেদন করেছেন নারীরা। অন্যদিকে পুরুষদের আবেদনের সংখ্যা ১ হাজার ২৫৪টি।

২০২১ সালের প্রথম আট মাসে দিনে প্রায় ১৯টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।

ডিএনসিসি: ২০২০ সালে ডিএনসিসিতে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা ৬ হাজার ১৬৮টি। এর মধ্যে পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা ২ হাজার ১১৫ এবং নারী আবেদনকারীর সংখ্যা ৪ হাজার ৫৩।

২০২০ সালে ঢাকা উত্তরে দিনে প্রায় ১৭টি করে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

দুই সিটি করপোরেশন মিলে ২০২০ সালে দিনে প্রায় ৩৪টি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। প্রতি মাসে এ সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে সম্পর্কে সন্দেহ একটি বড় ধরনের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহজাবিন হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন ডিভাইসগুলো একটি বড় সমস্যা। এটি একটি বড় রোল প্লে করছে। যিনি ডিভাইস ব্যবহার করছেন, তিনি কতটুক ব্যবহার করছেন বা কখন ব্যবহার করছেন, সেটি একটি বড় বিষয়।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘এখন হাতের কাছে টিপ দিলেই কারও সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। অনেক সময় পার্টনারের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ হচ্ছে না। আর এই সময়ে সে আরেকজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, তখন কিন্তু তার মধ্যে একদিকে বর্তমান সম্পর্কের তিক্ততা আর অন্যজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই যে সম্পর্কগুলো তৈরি হচ্ছে, এটি কিন্তু একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় সত্যিকারের কেউ চলে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় সন্দেহের শিকারও হচ্ছে। আশপাশে যখন এমন ঘটনা ঘটছে, তখন অন্যরা সন্দেহ করছে।’

এ থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিয়ে মেহজাবিন বলেন, ‘এর জন্য কিন্তু কাপলদের নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। শুধু ভালোবাসায় কাজ হবে না।

‘সম্পর্কের যে কমিটমেন্ট, সেটা ঠিক রেখে বিশ্বাস আনতে হবে। কাপলদের মধ্যে খোলাখুলি কথা বলা উচিত যে বিষয়ে সমস্যা হবে।’

‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর সমন্বয়ক জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিচ্ছেদকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে হবে। সম্পর্ক থাকলে বিচ্ছেদ হবেই। আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করে বিচ্ছেদ একটা অস্বাভাবিক বিষয়। বিবাহ যদি হয়, তবে বিচ্ছেদ হবে।

‘বিবাহ হচ্ছে একটা চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক। চুক্তি যখন থাকে, তখন সেটা ভেঙেও যেতে পারে। এটা থেকে বেরিয়ে আসার জায়গা না খুঁজে এটাকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করা যেতে পারে। আর সমাজ যেন এটাকে খারাপ চোখে না দেখে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।’

বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করে জিনাত বলেন, ‘সন্দেহ বিচ্ছেদের অনেক বড় একটা কারণ। আর সন্দেহ নারীদের থেকে পুরুষরা বেশি করে। আর ডিভোর্সের ক্ষেত্রে দেখা যাবে নারী বলছে বেশি।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘নারীরা কিন্তু এখন আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাই ফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, চাকরিজীবনে কার সঙ্গে কথা বলেন, কার সঙ্গে মেশেন, ফিল্ডে কার সঙ্গে গিয়েছেন, এইগুলো কিন্তু বড় ব্যাপার।’

জিনাত ও মেহজাবিন হক মনে করেন, প্রযুক্তি আগের চেয়ে সহজলভ্য হওয়ায় স্বামী বা স্ত্রী বাদে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন অনেকেই মেসেঞ্জার বা ফেসবুকে নতুন কারও সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। চাইলেই এটা থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। মানুষের মন তো শিকল না যে, এটা আটকে রাখা যাবে।’

জিনাত আরা হক বলেন, হাতে প্রযুক্তি থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু এর মাধ্যমে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক অস্বাভাবিক। এটা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three + 8 =