Templates by BIGtheme NET
১৩ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

যেভাবে ২০০ বছর আগের ‘মরা তিস্তা’ ফিরে পেয়েছে প্রাণ!

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৩, ২০২১, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

মানচিত্র থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া দুইশ বছর আগের ‘মরা তিস্তা’এখন প্রাণবন্ত হচ্ছে । নদীটির ১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছিল বসতি ও স্থাপনা। বরেন্দ্র বহুমুখী কতৃপক্ষের (বিএমডিএ) দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মরা তিস্তা আবার জেগে উঠেছে।

বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষ বলছে, দুইশ’ বছর পর আবার সেই নদীতে চলছে নৌকা, জেলেরা ধরছে মাছ আর পানিতে চরে বেড়াচ্ছে জলচর পাখি ও হাঁস। শুধু খনন নয়, দুই পাড় সংরক্ষণ ও পরিবেশ উন্নয়নে তীরের পাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে।

জানা যায়, ১৭৭৬ সালের রেনেল মানচিত্রে প্রদর্শিত তিস্তা নদীর একটি শাখা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির দক্ষিণ থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে। নদীটি নীলফামারী জেলা পেরিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ দিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার শেষভাগে করতোয়ার সঙ্গে মিশেছে।

১৭৮৭ সালে রংপুরসহ আশপাশের এলাকাসহ ভারতের একাংশজুড়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও বন্যা হয়েছিল। যার কারণে গতিপথ বদলে যায় তিস্তার। ফলে মূল তিস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি হয় মরা তিস্তা। বেদখল হয়ে গড়ে ওঠে বসতি ও স্থাপনা। এমন পরিস্থিতিতে নদী উদ্ধার ও দখলমুক্তকরণে পরিকল্পনা শুরু করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।

এ অবস্থায় বিএমডিএ এর উদ্যোগে পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের (ইআইআরপি) মাধ্যমে খাল, ছোট নদী খনন কার্যক্রম শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে বদরগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া ‌’মরা তিস্তা’ নদীর প্রবাহ এলাকা শনাক্ত করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার খনন করা হয়। আর এতেই ফিরে আসে পানি।

মরা তিস্তার হারানো যৌবন ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে ২০টি গ্রামের ৫ হাজার হেক্টর জমি চাষ উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × 1 =