Templates by BIGtheme NET
১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১১ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

বাংলাদেশের অগ্রগতির খতিয়ান

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ১৬, ২০২১, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয় বীর বাঙালীর এক গৌরবময় বিজয়গাথা। এ উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ, অগণিত মুক্তিযোদ্ধা ও দুই লাখ মা-বোনকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে উদ্যাপিত বিজয় দিবসে আমরা কতটুকু এগোলাম সে সম্পর্কে ধারণা দেয়ার নিমিত্তে আজকের নিবন্ধের অবতারণা।

বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। অনেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্বে। জন্মলগ্নে (১৯৭২-৭৩) বাংলাদেশের বাজেট ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে (২০২১-২২) ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, জন্মলগ্নে আমাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে বিধায় পুরো বাজেটই ছিল সাহায্য ও ঋণ নির্ভর। বর্তমানে বাজেটে নব্বই ভাগের অধিক অর্থ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যোগান দেয়া হচ্ছে। সারণি আকারে বিগত ১৫ বছরের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক নির্দেশক ও উন্নয়ন-সেবামূলক তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

 


সারণিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সাফল্যের তুলনামূলক চিত্র (২০০৬-২০২১)

স্বাধীনতাউত্তর এক বছরের মধ্যে গণমুখী সংবিধানসহ প্রায় ১০০-এর অধিক আইন ও নীতি প্রণয়ন করে বঙ্গবন্ধু সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ভিত রচনা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সুদৃঢ় নেতৃত্বে মাত্র তিন বছরের মাথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংসস্ত‚প থেকে টেনে তুলে স্বল্পোন্নত দেশের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ও বিজয়ের সুপারিশ লাভ করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণদাতা দেশের কাতারে উঠে এসেছে।

প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৭৩-৭৮) যেখানে বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরশীলতা ছিল প্রায় ৮৮ ভাগ, সেখানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০২০-২৩) বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা ১২ ভাগের নিচে নেমেছে। যেখানে ১৯৭২-৭৩ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ডলার, বর্তমানে (২০২০-২১) তা বেড়ে ২২২৭ ডলার হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত মেগা প্রকল্পসমূহের কাজ সমাপ্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতিমাত্রা সঞ্চার করবে। এখন বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের পূর্বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, ২০৩০ অর্জন এবং ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে। আর এ সবকিছু সম্ভব হয়েছে আজ থেকে ৫০ বছর আগের এদিনটির জন্য। আমরা যাতে কোন অবস্থাতেই তা ভুলে না যাই। রক্তের ঋণে আমরা দায়বদ্ধ। এ দায়বদ্ধতা উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোধ করতে হবে।

করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় পর্যুদস্ত হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব ও যথাযথ নির্দেশনায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটা গতিশীল রয়েছে। জীবন বহমান নদীর মতো। জীবনে চলার পথে আকাশে কালো মেঘ মাঝে মধ্যে ঘনীভূত হবে কিংবা সঙ্কট আসবে। তবে তা কেটেও যাবে। বাঙালী জাতি সবসময় লড়েছে, জিতেছে। করোনা চলমান এ যুদ্ধেও আমরা জিতব নিশ্চয়ই।

এদেশের মানুষ জীবন দিয়ে মাতৃভাষার সম্মান রেখেছে। স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। এখন তার সুফলও ভোগ করছে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও প্রাপ্তি নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম আগামীতে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে বসবাস করতে সক্ষম হবে। এতে বঙ্গবন্ধুসহ ৩০ লাখ শহীদের আত্মা চিরশান্তি পাবে।

লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্বিবদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ten − ten =