Templates by BIGtheme NET
২ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৮ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হাইটেক পার্ক : বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরবর্তী ঠিকানা

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ২, ২০২২, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, শেখ জামাল সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং চট্টগ্রামের শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠান। এই তিন হাইটেক পার্কে মোট ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ২৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান করবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। আগামী দুই মাসের মধ্যেই পার্কগুলোয় বিনিয়োগ করতে হবে জায়গা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কালিয়াকৈরে ৪টি এবং চট্টগ্রামে ১৬টি ও কুয়েটে ১টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। অবশ্য হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে এটি কেবল শুরু। হাইটেক পার্কের এই উদ্যোগ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেছেন, আশা করি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান এবং রফতানি আয়ের একটি বড় হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এখন পর্যন্ত দেশের হাইটেক পার্কগুলোয় ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস ও প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ১৪৮টি স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস-কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে ৩৬০০০ জন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইসিটি খাতে প্রায় ২২০০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের হাই-টেক পার্কগুলোতে ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস ও প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ১৪৮টি স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস-কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে ৩৬০০০ জন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইসিটি খাতে প্রায় ২২০০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর; বিনিয়োগকারীদের অতি সহজে, অল্প সময়ে ও কম খরচে সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে মোট ১৪৮টি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বাংলাদেশ কার্ড লিমিটেড ৪ নম্বর ব্লকে সাত একর জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে স্মার্টকার্ড বিশেষ নিরাপত্তা পণ্য এবং এটিএম মেশিন উৎপাদন ও সংযোজন করবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করবে ৮৬০ কেটি টাকা। সেখানে কর্মসংস্থান হবে ৬৫০ জনের।
এ ছাড়াও এই পার্কের ৬ নম্বর ব্লকে ২ একর জায়গা প্রাপ্ত এশিয়া কম্পিউটার বাজার লিমিটেড ৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান তৈরি করবে ৬০০ জনের। আর ৪ নম্বর ব্লকে ০ দশমিক ৫ একর জমিতে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ১৫০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি করবে মসেলট্রন ইলেক্ট্রো ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। এই পার্কেই ১৪ দশমিক ৩৩ একর জায়গা পেয়েছে আইসিটি বিভাগের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি।
চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে জমি বরাদ্দ পেয়েছে জেনেক্স, হ্যালো ওয়ার্ল্ড, এক্সসিড বাংলাদেশ লিমিটেড, ইঞ্জিনিয়াম কনসাল্টিং, এডব্লিউ কমিউনিকেশন, কাজী কমিউনিকেশনস, আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড, এক্সপোনেন্ট ইনফো সিস্টেম, ট্রাস্ট গ্লোবাল, ইমতিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, রিয়েল আইটি, সংযোগ ইউ ডটকম, কোডার্স ল্যাব, প্লান-বি সল্যুশন, কেএ আরকমিউনকেশন এবং বাংলা পাজল লিমিটেড। এ ছাড়া আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া এবং অংশীজনদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি, আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপদের মধ্যে ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন, আইসিটি খাতে গবেষণা ইত্যাদি উদ্দেশ্য সাধনকল্পে ৪টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ওমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই), নারী উদ্যোক্তা ফোরাম, নিবেদিতা এবং বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি)। ফলে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্র্যান্ডিং ও আইসিটি খাতের অগ্রযাত্রা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে মর্মে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম বলেন, বাংলাদেশে টেকসই হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম নির্মাণের এখনই উপযুক্ত সময় যেখানে হাই-টেক পার্ক অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। কোভিড-১৯ পরবর্তী বৈশি^ক যে মন্দার ঝুঁকি রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি যথেষ্ট নয়। চলমান পরিস্থিতিতে যেসব দেশ জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশে মনোনিবেশ করছে তারাই এফডিআই (সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ) আকৃষ্ট করতে সমর্থ্য হবে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে, প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার তাগিদ দেন সিনিয়র সচিব। তিনি আরও বলেন, দেশে এই মুহূর্তে ১০টি হাই-টেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত, এর মধ্যে সম্প্রতি তিনটি পার্ক প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসে উদ্বোধন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে উৎপাদিত পণ্য বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।
হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে এই মুহূর্তে ৫টি হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এবং আরও তিনটি পার্ক উদ্বোধনের অপেক্ষায়। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ৩৫৫ একর জমিতে বিভিন্ন কোম্পানি কাজ করছে। এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কগুলোয় ১৪০টির অধিক স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস-কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক
কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে ২৮৫০০ জন। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইসিটি খাতে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২১০০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ঠিকানা হয়ে উঠবে এসব হাইটেক পার্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

8 − eight =