Templates by BIGtheme NET
৯ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৫ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৫ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ৯, ২০২২, ১২:৩০ অপরাহ্ণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে ভারতের সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছে। ওই সময়ে ভারতের সেই সহযোগিতার কথা বাঙালী জাতি কখনও ভুলবে না। একইভাবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য বড় হওয়ার পাশাপাশি ঘাটতিও বেড়েছে। সেই ঘাটতি ভারতের অনুকূলে। এ অবস্থায় দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হলে উভয়দেশ লাভবান হতে পারবে।

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আলোচকরা এসব কথা বলেন। আইডিইবির প্রেসিডেন্ট একেএমএ হামিদের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ৫০ বছরে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ট্যারিফ-নন ট্যারিফ, এ্যান্টি-ডাম্পিংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কিছু সঙ্কট রয়েছে। এগুলোর দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া দেশ এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশটির সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এখন বিশ্বে বিরাট অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। সেই দেশটির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা গেলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবেও সাফল্য পাবে বাংলাদেশ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. মশিউর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুুক্তিযুদ্ধে ভারত সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করেছে। সেই সহযোগিতার ভিত্তিতেই আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামোগত, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার ভারত। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। ট্যারিফ-নন ট্যারিফসহ যেসব বিষয়ে সমস্যা রয়েছে তা আন্তরিকভাবে সমাধানে উদ্যোগী হবে দুই দেশ। বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, প্রযুক্তি উন্নয়নে দুই দেশ এখন নলেজ শেয়ারিং করছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে সব সময় ভারত পাশে থেকে কাজ করবে। তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

একেএমএ হামিদ বলেন, বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে রয়েছে। এ কারণে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রতিবেশী ভারতের প্রযুক্তি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি খাত। এই খাতে নলেজ শেয়ারিং, প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগ বাড়াতে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

 

সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × 1 =