Templates by BIGtheme NET
১০ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বিএনপি নেতাদের ওপর চটেছেন শামীম এস্কান্দার

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১০, ২০২২, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার এবার বিএনপি নেতাদের ওপর চটেছেন। গত কিছুদিন আগেও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন শামীম এস্কান্দার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিরুত্তাপ, নিঃস্পৃহ এবং হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। প্রতিদিন তিনি হাসপাতালে যাচ্ছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং বাসায় চলে আসছেন। বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য তিনি আগে যে দেন-দরবার করছিলেন তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। কেন এ অবস্থা সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির রাজনীতি করছে এটি শামীম এস্কান্দার মোটেও পছন্দ নয়। শামীম এস্কান্দার তাঁর ঘনিষ্ঠদেরকে একথা জানিয়েছেন। এমনকি বিএনপির দুইজন নেতাকে বলেছেন যে, এভাবে রাজনীতি করে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশেও পাঠানো যাবে না, মুক্তও করা যাবে না। শামীম এস্কান্দার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেছেন যে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করছে। এটি অনভিপ্রেত বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করা হয়েছিল। এ সময় শামীম এস্কান্দার চেয়েছিলেন যে সরকারের সাথে দেন-দরবার করে খালেদা জিয়ার অন্তত একটি জামিনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেই সময়ে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এবং বিএনপির কিছু নেতা এই প্রস্তাবের তীব্র আপত্তি জানায়। তারা মনে করে যে, বেগম খালেদা জিয়া আপোষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে অপমানজনক। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপি তারেক জিয়ার নির্দেশে প্রথমে আন্দোলন, তারপর আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। কিন্তু সবকিছুতেই তারা অকৃতকার্য হন। শেষপর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারেই থাকতে হয়।
এই অবস্থায় যখন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি তখন শামীম এস্কান্দার বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার সম্মতির ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার শুরু করেন। এ দেন-দরবারের অংশ হিসেবেই শামীম এস্কান্দার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। গণভবনে সাক্ষাৎকারের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর উদারতায় বেগম খালেদা জিয়াকে ২০২০ সালের ২৪শে মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় জামিন দেয়া হয়। ছয় মাসের এ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বর্তমানে তিন দফা বাড়ানো হয়েছে। এখন বেগম খালেদা জিয়া সেই জামিনেই রয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া যখন করোনায় আক্রান্ত হন তখন শামীম এস্কান্দার আবার বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার আবেদন করেন। এই আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রেরণ করেন। কিন্তু এরমধ্যে বিএনপি এটি নিয়ে রাজনীতি করা শুরু করে এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
এই পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন। দ্বিতীয় দফায় আবার তিনি গত ১৩ই নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। এ পর্যায়ে আবার শামীম এস্কান্দার তৎপর হন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। শামীম এস্কান্দার আশাবাদী ছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত হয়তো সরকার বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হবেন এবং সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে তিনি এ ব্যাপারে আশ্বাসও পাচ্ছিলেন। কিন্তু যখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছেন শামীম এস্কান্দার ঠিক সেই মুহূর্তে শামীম এস্কান্দারকে না জানিয়েই বিএনপি আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই আন্দোলনের কর্মসূচিতে সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করা হয়। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুকেও সামনে নিয়ে আসা হয়। এর ফলে সমঝোতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ভেস্তে যায়। এটিকে এক ধরনের ষড়যন্ত্র মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। শামীম এস্কান্দার মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি একটি নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × one =