Templates by BIGtheme NET
১১ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৭ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৭ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

হারার আগেই হারছেন তৈমুর?

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১১, ২০২২, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন জমে উঠেছে। আজ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণী এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানকার এমপি শামীম ওসমান। শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে তার নেতাকর্মীদেরকে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে অর্থাৎ নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অনেকটা বাধ্য হয়ে চাপের মুখেই যে শামীম ওসমান এই নির্দেশ দিয়েছে এটা বলাই বাহুল্য। এরফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারের পরাজয় মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এটি তৈমুরের বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ নয়। নারায়ণগঞ্জবাসী বলছেন যে, তৈমুর আলম খন্দকার গত কিছুদিন ধরেই নির্বাচনের মাঠে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলছেন যে কথাবার্তাগুলো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

তৈমুর আলম খন্দকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ‘গডমাদার’ বলেছেন। নারায়ণগঞ্জের সকলেই জানে সেলিনা হায়াৎ আইভী আলাদা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সৎ এবং আদর্শবাদী একজন রাজনীতিবিদ। তিনি কখনোই রাজনীতিতে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেননি, এমনকি নারায়ণগঞ্জে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছে। এমনকি যারা আইভীবিরোধী তারাও জানেন যে, সেলিনা সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত শহর করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা করছেন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আইভীর অনেক রকম ব্যর্থতা রয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় তিনি সফল, সেটি হলো যে সন্ত্রাসের ব্যাপারে তিনি সবসময় সরব এবং এর প্রতিবাদ করতে তিনি পিছপা হন না। এ কারণেই তিনি নারায়ণগঞ্জ আলাদা একটি অবস্থান নিয়ে আছেন। শামীম ওসমান এবং ওসমান পরিবারের দাপটের বিরুদ্ধে তিনি নারায়ণগঞ্জের নিরীহ এবং অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবেই পরিচিত। সেই আইভীকেই যখন তৈমুর আলম খন্দকার গডমাদার হিসেবে অভিহিত করেছেন, তখন নারায়ণগঞ্জবাসী এটিকে সহজভাবে নেয়নি।

উল্লেখ্য যে, এই ঘটনা নাকি অনেকেই ১৯৯৪ সালের ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই সময় মির্জা আব্বাস বলেছিলেন যে, মেয়র হানিফকে ঢাকা থেকে বের করে দেবেন। এটি ঢাকাবাসী পছন্দ করেননি। এই সময় মেয়র হানিফ ঢাকাবাসীর কাছে বিচার চেয়েছিলেন। আর জনগণ ভোটের মাধ্যমে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে এর বিচার করেছিল। এবারও তৈমুর আলম খন্দকার আইভীকে গডমাদার বলার পর নারায়ণগঞ্জে ভোটের হাওয়া পাল্টে গেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচনী প্রচারণাটা শুরু করেছিলেন ভালোভাবেই। তিনি আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের সমর্থনও পেয়েছিলেন এবং তার নির্বাচনী পালে হাওয়া ভালই লেগেছিল। অনেকে মনে করেছিল যে, এই নির্বাচনে হয়তো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং আইভীকে হারানোর জন্য শামীম ওসমান গ্রুপ তৈমুর আলম খন্দকারের সাথে একাট্টা হবে। হিসেবটা ছিলো খুব পরিষ্কার। আওয়ামী লীগের একাংশ, বিএনপির পুরোদল, জামায়াত এবং হেফাজতের একাংশ মিলে তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচনে বাজিমাত করবেন, এমনটি মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের সময় যতই এগুচ্ছে ততই পিছিয়ে পড়ছেন তৈমুর আলম খন্দকার। একদিকে যেমন শামীম ওসমান এখন প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দিতে পারবেন না তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিভক্তি অনেকটাই দূর হয়ে গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, তৈমুর আলম খন্দকার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ভোটারদের সহানুভূতি নষ্ট করেছেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে ভোটের আগেই একরকম হেরে বসছেন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × two =