Templates by BIGtheme NET
১২ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ঝিনাইদহের বিস্ময় বালক সাদ

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১২, ২০২২, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে থরে থরে সাজানো বই। পাশে ল্যাপটপ। আপন মনে লিখে চলেছে। প্রতিবেদককে দেখে মিষ্টি হাসি দিয়ে আবারও লিখতে বসল। খাটের সঙ্গে দেওয়ালে সাঁটা একটি সাদা লেখার বোর্ড। ভিন দেশের একটি মানচিত্র আঁকা রয়েছে। নাম ধরে ডাকতেই কাছে চলে এলো। কোনো জড়তা নেই। আঁকতে বললাম, অস্ট্রেলিয়ার একটি ম্যাপ। কয়েক সেকেন্ডে একে দিল।

শুধু এতে ক্ষান্ত নয় সে। রীতিমতো অভিজ্ঞ শিক্ষকের মতো করে ইংরেজিতে ওই দেশ সম্পর্কে বলতে থাকল। সুপার ট্যালেন্ট এই বালকের নাম সামিউল আলীম সাদ। এখন বয়স মাত্র সাড়ে সাত বছর। দুই বছর বয়সেই শোনামাত্রই যে কোনো মোবাইল নম্বর বলে দিতে পারত সে। বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও মেধাবী হয়ে ওঠে সাদ। সুপার ট্যালেন্ট এই বালকের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুখে মুখে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের কাঁঠাল বাগান এলাকার আলি হোসেন আলীম ব্যবসায়ী ও আয়েশা আক্তার চার্লী স্থানীয় শহীদ নুল আলী কলেজের প্রভাষক। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে সাদ ছোট। ইংরেজি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারে। যে কোনো দেশের মানচিত্র নিমেষে এঁকে দিতে পারে সে। ভূমি, পাহাড়, পর্বত, সাগর-মহাসাগরের অবস্থান বলেও দিতে পারে। নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে তার। শিক্ষা বিষয়ে অন্তত ৬০টি ভিডিও ওই চ্যানেলে আপলোড করেছে সে।

২০১৪ সালের ৬ জুলাই জন্ম নেন সুপার ট্যালেন্ট এ বালক। মা আয়েশা আক্তার চার্লী জানান, ২০২০ সালে উপজেলা শহরের বেসরকারি শিশু এডাডেমিতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় সাদকে। কিছুদিনের মধ্যে করোনা মহামারি শুরু হয়। স্কুলে আর পড়া হলো না তার। ঘরে বসে মোবাইলে গেম কিংবা কার্টুন দেখেনি সে। হঠাৎ করে বাবার কাছে বায়না ধরে ল্যাপটপে ও মোবাইলে শিক্ষা বিষয়ক অ্যাপস ডাউন লোড করে দিতে হবে তাকে। ছেলের বায়না পূরণ করতে বাবা আলি হোসেন আলীম খানিকটা বাধ্য হয়ে কাজটি করে দেন। শুরু হয় মোবাইলে ও ল্যাপটপে পড়ালেখা। শিশু সাদ অল্পদিনে ইংরেজি রপ্ত করে ফেলে।

সামিউল আলীম সাদ বাংলার চেয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথাবার্তা বলতে থাকে সে।

বাবা-মা হতবাক হয়ে যান। ছেলের তাক লাগানো মেধার খবর অল্প দিনেই প্রতিবেশীরা জানতে পারেন। ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাবা একদিন ছুটে যান প্রতিবেশী স্কুল শিক্ষক এসএম মিজানুর রহমানের কাছে। তিনি (এসএম মিজানুর রহমান শিক্ষক) জানান, সাদের সঙ্গে ত্রিকোণমিতিসহ অংক শাস্ত্রের জটিল সূত্র এবং সমাধান নিয়ে কথা হয়। নবম-দশম শ্রেণির জটিল অংকের সহজ সমাধান করে দেয় সাদ। হকচকিয়ে যান ওই স্কুল শিক্ষক। আমেরিকা ও ব্রিটিশ উচ্চারণে নির্ভুল ইংরেজিতে দ্রুত কথা বলা সাদের পরীক্ষা নেন কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মো. সুমন শাহরিয়ার। তিনি বলেন, সাদ শুদ্ধভাবে ইংরেজি বলে। শুধু বলতে পারদর্শী তা নয়, লিখতেও পারে সে। ইউটিউবে শিক্ষামূলক নানা দিক তুলে ধরে লেকচার দেয় সাদ।

একমাত্র বোন সামিয়া আলীম প্রমি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাড়িতে ভাইবোনের সময় কাটে শিক্ষা বিষয়ক নানা দিক আলোচনা করে। ছোট ভাইয়ের বিষয়ে প্রমি জানায়, সাদ তাকে সব সময় জটিল জটিল প্রশ্ন করে থাকে। উত্তরগুলোও বলে দেয় তাকে। চঞ্চল প্রকৃতির সাদ ঘুম থেকে উঠে পড়ালেখা শুরু করে। গভীর রাতে ঘুমাতে যায়। পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও সাদ লুকিয়ে লুকিয়ে উঠে পড়ে। মোবাইল নিয়ে পড়ালেখা করতে থাকে। সব ধরনের খাবারে অভ্যস্ত হলেও আগ্রহ কম। খাবার সময়ে পড়তে থাকে সে। এলাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে চলতি জানুয়ারি মাসে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।

প্রতিবেদকের দীর্ঘ সময় কথা হয় সাদের সঙ্গে। বাংলা ভাষায় প্রশ্ন করা হলেও উত্তর দেয় ইংরেজিতে। সে জানায়, ‘আমি আমার দেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশ সুন্দর একটি দেশ। এই দেশকে আরও সুন্দর করতে বৃথা সময় নষ্ট না করে জ্ঞান অর্জনে মনোযোগী হওয়া উত্তম।’

সাদ অত্যধিক মেধাবী। সঠিক যত্ন নিলে ভবিষ্যতে সে হয়ে উঠতে পারে দেশের সম্পদ। বিস্ময়কর বালক সাদ আগামীতে বড় কিছু হবে, এমন প্রত্যাশা সবার। হতে পারেন উঁচু দরের একজন বিজ্ঞানী কিংবা শিক্ষাবিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

thirteen − 8 =