Templates by BIGtheme NET
১২ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

মাত্র ৮০ টাকায় তাজা রূপালী ইলিশের স্বাদ, সঙ্গে বিনোদন

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১২, ২০২২, ৫:০৯ অপরাহ্ণ

ইলিশের রাজধানী নামে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর জেলা শহর। জেলা ব্র্যান্ডিংও হয়েছে ইলিশের নামে। রূপালী ইলিশ মানে সারা বিশ্বে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার আহরিত ইলিশ পরিচিতি লাভ করে।

বছরজুড়ে কম-বেশি ইলিশ পাওয়ায় জেলা সদরসহ আশাপাশের নদী উপকূলীয় মৎস্য আড়ৎগুলোতে। তবে এখন শুধুমাত্র তাজা ইলিশ বিক্রিই নয়, খাবার হোটেলগুলোতে বিভিন্ন রেসিপিতে রান্না করে ইলিশ ভোজন বিলাসীদের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাটের হোটেলগুলোতে তাজা ইলিশ ভেজে বিক্রি করা হচ্ছে। দাম মাত্র ৮০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকার মধ্যে। গোটা ইলিশের স্বাদ নিতে এখন জেলার ও জেলার বাইরের লোকজন ছুটে আসছে।

মঙ্গলবার বিকালে সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাটে গিয়ে যায়, তাজা ইলিশের পসরা সাজিয়ে রেখেছে হোটেল ব্যবসায়ীরা। পাশেই ইলিশের আড়ৎ। জেলেরা পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে তাজা ইলিশ ধরে নিয়ে আসছে আড়তে। আড়তদাররা হাকডাক দিয়ে পাইকারি বিক্রি করছেন। সেখান থেকে সুবিধামত দামে তাজা ইলিশ কিনছেন অসংখ্য হোটেল মালিক। দুপুর ১২টার পর থেকে সেই তাজা ইলিশ ভেজে বিক্রি করার জন্য প্রক্রিয়া করে রাখা হয় এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতে।

হরিণা ফেরিঘাটে বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ১২টি হোটেলে তাজা ইলিশ বিক্রি করা হয়। কিছু সময় অপেক্ষা করে দেখা গেছে চাঁদপুর-শরীয়তপুরের মধ্যে চলাচলকারী ফেরি রুটের হরিণা অংশে অবস্থিত গাড়ি চালক, গণপরিবহনের যাত্রী ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা লোকজন এসব রেস্তোরাঁয় ইলিশ খাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনে বসে আছেন। অনেক রেস্তোরাঁ মালিক তাজা ইলিশ খাওয়ার জন্য ক্রেতাদের ডাকাডাকি করছেন।

চরমোনাই হোটেলের মালিক মো. মুজাহিদ বলেন, আগে ইলিশ সাধারণত মৌসুমী সব্জির সঙ্গে রান্না করে বিক্রি হত বেশি। কিন্তু এখন ভোজনবিলাসী ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। টাকার কোনো সমস্যা নেই। তাজা ইলিশের স্বাদ তাদের প্রয়োজন। এ কারণে আমরাও ছোট থেকে বড় সাইজের ইলিশ এখন বিক্রির জন্য প্রতিদিন প্রস্তুত করে রাখি। প্রতিদিন আমার হোটেলে দুপুর বেলায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে।

বিসমিল্লাহ হোটেলের মো. কবির হোসেন বলেন, তার হোটেলে প্রতিদিন কমপেক্ষ ৩০ হাজার টাকার তাজা ইলিশ বিক্রি হয়। ছোট সাইজের গোটা ইলিশ ৮০ টাকায়। একটু বড় সাইজের ২০০ টাকায়। একদম বড় আকারের ইলিশ কেটে টুকরো বিক্রি করা হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা পিস দরে। ১২টি খাবার হোটেলের মধ্যে গড়ে প্রত্যেকটিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি হয়।

কুমিল্লার দাউদকান্দি, মোদফফরগঞ্জ, চাঁদপুরের শাহরাস্তি, দোয়াভাঙ্গা, কচুয়া, কালিয়া পাড়া, হাজীগঞ্জ থেকে অনেক মানুষ ইলিশ খাওয়ার জন্য এখানে আসছেন বলে তারা জানান। এছাড়াও ফেরিঘাট হওয়ার কারণে ভাসমান অনেক ক্রেতা আসেন এখানে।

ইলিশ খেতে আসা ট্রাকচালক মোফাজ্জল মিয়া বলেন, চলার পথে প্রায়ই আমি হরিণা ঘাটে চরমোনাই হোটেলে তাজা ইলিশ খাওয়ার জন্য আসি। একদম টাটকা ইলিশ খেয়ে অনেক স্বাদ পাওয়া যায়। কারণ এসব ইলিশে কোনো বরফ দেয়া হয় না।

যেভাবে যাবেন: হরিণা ফেরিঘাটে তাজা ইলিশ খাওয়া এবং কেনার জন্য দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে এখানে আসতে পারবেন খুবই সহজে। ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে চাঁদপুর ঘাটে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হরিণা ঘাটে জনপ্রতি ভাড়া ৪০-৫০ টাকা।

ট্রেনে চট্টগ্রাম ও লাকসাম থেকে আসা যায়। চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৮টায় সাগরিকা এক্সপ্রেস এবং বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে মেঘনা এক্সপ্রেস চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এর মধ্যে সাগরিকা দুপুর দেড়টায় ও মেঘনা এক্সপ্রেস প্রতিদিন ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ছেড়ে যায়।

শুধু ইলিশ নয়, বিনোদনও: শুধুমাত্র ইলিশ খাওয়াই নয়, শহরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডও অল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো যাবে। এছাড়াও কেউ যদি রাতে অবস্থান করতে চান তাহলে এখন বেশ কয়েকটি ভালো মানের আবাসিক হোটেলও আছে চাঁদপুর শহরে।

প্রয়োজন না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যেতে পারবেন। কারণ চাঁদপুর থেকে বিলাসবহুল লঞ্চে ঢাকায় যেতে সময় লাগে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় যাওয়া ও আসা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 − three =