Templates by BIGtheme NET
১৩ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৯ পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৩, ২০২২, ২:১২ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও জোট সরকারের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর ঘিরে নানা রহস্য তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর প্রচার করছে। হঠাৎ তার মৃত্যু ঘিরে নানান প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরী জানান, হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল কাহের শামীম বলেন, ‘ তিন মাস আগে তিনি ঢাকায় মারা গেছেন। ঢাকাতেই দাফন করা হয়। তবে কোথায় দাফন করা হয় তা তিনি বলতে পারেননি।

এদিকে হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ একজন জানান, বর্তমানে হারিছ চৌধুরী ইরানে তার ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। তার ভাই একজন ডাক্তার। সেখানে তিনি চিকিৎধীন আছেন।

এছাড়া হারিছ চৌধুরীর বড় বোন একলাসুর নাহার বলেন, ‘আমি তার মৃত্যুর খবর শুনেছি। নিজে কিছু জানি না। হারিছের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। তিন বছর আগে আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর কানাডায় থাকাকালে দুবার ফোন দিয়েছিল হারিছ। তার পর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি। ছোট ভাই সেলিম মারা যাওয়ার পর কয়েক মাস আগে দেশে আসি। তখন হারিছ মারা যাওয়ার খবর আমি চাচাতো ভাই আশিকের কাছে শুনেছি।’

ইরানে বসবাসরত হারিছ চৌধুরীর ছোট ভাই ডা. মুকিত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আমাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ২০০৭ সালের পর থেকে ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়নি।’

হারিছ চৌধুরীর রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলুও হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন বলে শুনেছেন। এর বেশি কিছু জানেন না তারা। এক-এগারোর পর তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়নি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজা হয় হারিছ চৌধুরীর। একই বছর ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়। এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। বর্তমানে সেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

২০০৭ সালে এক-এগারোর পালাবদলের পর সস্ত্রীক দেশ ছাড়েন তিনি। তাঁর পর থেকে হদিস ছিল না তাঁর। তাঁর বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগর গ্রামে। তাঁর স্ত্রী জোসনা আরা, ছেলে নায়েম শাফি ও মেয়ে সামিরা তানজিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার মেয়ে ব্যারিস্টার, ছেলে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

11 − 2 =