তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলছেন; ডাইরেক্ট অ্যাকশনের হুমকি দিচ্ছেন। আসলে পায়ের নিচে মাটি নেই বলে এসব তাদের নিজেদের ওপর জেকে বসা ভয় তাড়ানোর নির্জীব হুংকার। আত্মবিশ্বাস হারানো এক ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক দলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

গুরুতর অসুস্থ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি ছাড়াও ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনী ব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন বিএনপি নেতারা। এসব অভিযোগে তারা সরকার পতনের ডাক দিচ্ছেন নানা সময়।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা জানতে চাই- কাদের নিয়ে তারা যুদ্ধ করবেন? কেন যুদ্ধ করবেন? তাদের যুদ্ধ কী লুটপাট, দুর্নীতি আর অরাজকতা সৃষ্টির জন্য?’

বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগও প্রস্তুত।

বিএনপির যেকোনো ধরনের আস্ফালনকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করা হবে।’

দেশবাসী বিএনপিকে প্রত্যাখান করেছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণকারী, দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষক, উগ্র-সাম্প্রদায়িকতার ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত এবং যারা স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক অপরাজনীতির উত্তরাধিকার, তাদেরকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আহ্বানের পরও বিএনপি সংলাপে অংশ না নেওয়ায় তাদের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংঘাত, সহিংসতা, জনমতবিরোধী তৎপরতা গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে আলাপ-আলোচনা, সংলাপ, পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্র বিকাশের পথকে কুসুমিত করে। যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে না, তারা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিতে শ্রদ্ধাশীল নয়- তারা সংলাপে আস্থা রাখে না। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করতে চায়।’

সারাদেশে পাঁচটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দাঙ্গা, হাঙ্গামা ও সংঘাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন; যাদের মধ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মারধরে ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডেরও বিস্তর অভিযোগ এসেছে।

এতসব অভিযোগের পরও ওবায়দুল কাদের দাবি করছেন, সারাদেশে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে।

আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং কমিশনের কাজে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না। ভোটারদের নিরাপত্তা বিধান ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এবং আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে সরকার সর্বদা কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর। আশা করি, আগামীতে যে কোন ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে কমিশন এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আরও তৎপর থাকবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ আগামী ১৭ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নিবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্টেকহোল্ডার হিসেবে একটি অর্থবহ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে শক্তিশালী কমিশন গঠনে আওয়ামী লীগের মতামত ও প্রস্তাবনা সংলাপে উপস্থাপন করা হবে। আমরা মনে করি, পারস্পরিক আলোচনা যে কোনো জটিল সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।’